নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটিতে তিন দিনের আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন করেছে রামু প্রেসক্লাব। গত ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ ভ্রমণে কক্সবাজার জেলা শহর ও রামুতে কর্মরত সাংবাদিকসহ রামু প্রেসক্লাবের প্রায় ৪০ জন সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
গত বৃহস্পতি (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রামু রেলস্টেশন থেকে রেলযোগে যাত্রা শুরু হয় এই আনন্দ ভ্রমণের। রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছে ভ্রমণপিপাসু সাংবাদিকরা পরদিন ভোরে রাঙামাটিতে পৌঁছান।
দ্বিতীয় দিনে (৭ নভেম্বর) তারা রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র — কাপ্তাই বাঁধ, লাভ পয়েন্ট, সওজ লেক, আসামবস্তি সেতু ও নৌবাহিনী পার্ক পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় রাঙামাটি প্রেসক্লাবে পৌঁছালে স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
তৃতীয় দিনে (৮ নভেম্বর) আনন্দ ভ্রমণ আরও রঙিন হয়ে ওঠে। সকালে ইঞ্জিনচালিত ট্যুরিস্ট বোটে শুভলং ঝর্ণা, মায়াবী দ্বীপ, আদিবাসী পল্লী, আদিবাসী হাট, ঝুলন্ত ব্রিজ ও পলওয়েল পার্ক ঘুরে দেখেন অংশগ্রহণকারীরা। দুপুরে লেকের মাঝখানে অবস্থিত সাং পাং রেস্টুরেন্টে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভা ও কর্মশালা:
রাঙামাটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রামু প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আবদুল্লাহ আল মামুন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ ও নুরুল ইসলাম সেলিমসহ অতিথিরা।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, চ্যানেল ২৪-এর কক্সবাজার প্রতিনিধি আজিম নিহাদ এবং এটিএন নিউজ-এর কক্সবাজার প্রতিনিধি অর্পণ বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে আনন্দ ভ্রমণ সফলভাবে আয়োজন করায় আবু হানিফ মোহাম্মদ রুবাইদকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী ইসকান্দর মির্জা, অর্পণ বড়ুয়া, খালেদ হোসেন টাপু, আবুল কাশেম সাগর ও সোয়েব সাঈদ।
পুরো আয়োজনে অংশ নেন রামু প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, কার্যকরী সদস্য ও রামু ও কক্সবাজারের কর্মরত সাংবাদিকরা।