কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় উখিয়ার সোনারপাড়া, মংগাইয়ার টেক, ডেইলপাড়া ও নিদানিয়া এলাকায় ঝাউগাছ উপড়ে পড়লেও এসব গাছ সরকারিভাবে নিলাম বা রাজস্বের আওতায় না এনে রাতের আঁধারে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিট কর্মকর্তা কামরুল হোসেন পাটোয়ারীর পরোক্ষ সহায়তায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব গাছ পাচার করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দিনে গাছ উপড়ে পড়ার দৃশ্য সবার চোখে পড়লেও রাতে ট্রলি ও পিকআপে এসব গাছ পাচার হয়ে যায়। বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসব বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও তিনি তা অস্বীকার করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় সোনারপাড়া এলাকায় একটি ট্রলিতে করে গাছ পাচার করতে দেখা গেলে বিষয়টি ইনানী বিট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। প্রমাণসহ অভিযোগ করা হলেও তিনি দাবি করেন, “এখানে স্পটে গিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।” তবে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে সরেজমিনে। দেখা গেছে, নিয়মিতভাবেই ঝাউগাছ পাচার করা হচ্ছে এবং স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই সরকার প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ সড়ক প্রশস্তকরণের ফলে উপড়ে পড়া বা অপসারিত গাছ সরকারি সম্পদ হিসেবে নিলামে তোলা কিংবা রেজিস্ট্রারভুক্ত করে রাজস্ব আদায় করা বিধিসম্মত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিন বলেন,”আমার জানা মতে মেরিন ড্রাইভ রাস্তা প্রসস্থকরণের জন্য কিছু গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে,যার কাঠের অংশ লট করে বিক্রি করার জন্য বিট অফিসারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। রাস্তার ধারের গাছের এমন উপড়ে ফেলে নষ্ট করার সংখ্যাভিত্তিক প্রতিবেদন নিয়মিত আমরা বিভাগীয় অফিসে প্রেরণ করে থাকি। আপনার অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”