ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার জেলা কারাগার। ৮৩০ জন বন্দি ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৮৮৫ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে ২ হাজার ৫৫ জন বেশি বন্দি রয়েছেন এখানে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার কারাগারে পুরুষ হাজতি রয়েছেন ২ হাজার ৭৪১ জন এবং নারী হাজতি ১৪৪ জন। এছাড়া পুরুষ কয়েদি রয়েছেন ২৮৪ জন এবং নারী কয়েদি সাতজন।
কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন চারজন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬২ জন এবং নারী চারজন।
অন্যদিকে, কক্সবাজার কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে ৮৮৪ জন মাদক মামলার আসামি।
অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণি ও অপরাধের বন্দিদের পৃথক রাখার ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
কারাগার সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির জন্য ৩৬ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু অতিরিক্ত বন্দির কারণে সেই সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক পরিবেশে বন্দিদের রাখার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে মোট ৭ হাজার ৮৫০ জন বন্দি ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার কারাগার অন্যতম অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকা কারাগার।
যা বলছেন কারা কর্তৃপক্ষ
অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২০ হাজার। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি কারাগারে বন্দির সংখ্যা কিছুটা বেশি। চট্টগ্রামে নতুন একটি কারাগারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের যত্নে কোনও প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। তবে বেশি বন্দির কারণে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।’